Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

September 17, 2014

কবিতা / নীল আলোর ফুল ১ / অঞ্জন কুমার দাস

আমার অভাবের পাশে রয়েছি আমি
তোমার ঐশ্বর্য্যের পাশে গর্বভরে তুমি
আমাদের সময় ফুরিয়ে গেল মাঝপথে
আমাদের অহংকার ছোট হলনা এতটুকু। 

এক মুঠো রোদ, উৎসব ১৪২০
সম্পাদক : প্রসূন শিকদার

September 10, 2014

আগমনী  অলক সরকার


পুজোর মাস। হট্ ফ্যাশন। হিন্দী ফিল্মের হিট শাড়ি,
বায়না বেশি। পকেট শর্ট। যে যেমন দেয় টিটকিরি।

পুজোয় কোথায় ? পাহার নাকি জঙ্গলে,
ভাল্লাগে না। চল্ সুশান্ত— কেটে পড়ি ‘মঙ্গলে’।

    
মেয়ের মাথায় ফরেন কাট্
    চুল কাটাতেই একশ’ ষাট

পাড়ার পুজোর বিগ বাজেট। হয়নি বোনাস;
বুঝিস্ তবু— কোন্ হিসেবে চাঁদা চাস্ ?

সেই যে তুমি। কোচিং ক্লাসে একটু দেখা,
        হৃদয়টা তো মানছে না
বলেই ফেলবো এবার পুজোয়
‘আই লাভ ইউ— তোমায় ছাড়া চলছে না’।

শারদ আকাশ ভাবপ্রবণ— লিটল ম্যাগ ঘরে ঘরে
গল্প চাই- কবিতা চাই, লোকাল কবির দাম বাড়ে।
যদু-মধু’র ক্যাসেট বেরোয়। সর্দ্দি-গলা তাতে কি!
সেক্স ভায়োলেন্ট ফাটাফাটি, স্টার সিনেমায় হিট ছবি।

______________________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

কবিতা / সুখপাখি / অঞ্জন কুমার দাস

অনিয়ত পিপাসার ভেতরেই
সৎসারে লুকিয়ে থাকে সুখ
কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না
কেউ সুখী কারও বুকে অসুখ
কেউবা খুঁজেই পায় না
সুখপাখিটির ঠিকানা।

স্মরণিকা, উত্তর দিনাজপুর জেলা বইমেলা, ২০১৩

September 9, 2014

বৃষ্টি ও আমরা  জয়িতা রায়

একরাশ কালো মেঘ, একফালি ভেজা রাস্তা,
যতদূর চোখ যায় দেখেছি— কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে!
তবে কোথাও না কোথাও এক হয়েছে ওরা
ভেজা রাস্তা; কাক-ভেজা তুমি আর আমি।
তবু চলার বিরাম নেই তোমাতে আমাতে।
এক ঝলক বিদ্যুতের ঝলকানি এ হৃদয়ে ভয় দেখিয়েছিল,
তবু ভয় পাইনি, তোমার সঙ্গ ছিল বলে।
প্রবল বৃষ্টিতে বন্ধ চায়ের দোকানের চালের
নীচে দাঁড়িয়ে ভেজা তুমি আর আমি . . .
বাজ পড়া কবেকার পুড়ে যাওয়া মাথা ভাঙা
খেজুর গাছটির মাথায় নিশ্চিন্ত দুপুরে—
ভেজা শালিক দুটো তাদের ভালোবাসার কথা বলছিল।
ভালো লাগছিল। যদিও শুনতে বা বুঝতে পারিনি
একটি বর্ণও। তবু। তবু ভালো লাগছিল।
ভালো লাগছিল তাদের নিশ্চিত নিভৃত ভালোবাসা,
কখন যেন বৃষ্টি কমে গেছে, কালো মেঘটা,
তার কালো রং হারিয়ে একটু নীল, সাদা, হলুদ
রং মেখে নতুন কোন কাজের সন্ধানে নেমেছে
ততক্ষণে ভেজা তুমি আর আমি মেখেছি
ভালোবাসায় মাখা অধীরের প্রতিটি কণা।

_______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

যন্তর  সুব্রত বাইন

কত যন্তর আইল গেল
হদিশ পাইলাম না
ভালবাসা মাপবার লাইগ্যা
যন্তর পাইলাম না।
আহা! যন্তর পাইলাম না।

কত যন্তর আইবে যাইবে
গুণন যাইবে না
বেদনা কত জমল বুকে
ঠাহর পাইলাম না
হায়রে, ঠাহর পাইলাম না।

কেন মন করে আন্চান্
কখন যে ধরে ভালবাসার গান
বিঁধে কখন বুকে বেদনার তান
কিছুই জানলাম না
হায়রে, ভালবাসা মাপবার লইগ্যা
যন্তর পাইলাম না।

______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

কবিতা / প্রার্থনা / প্রণব কুমার দেবনাথ

উলঙ্গ পৃথিবীর নগ্ন চেহারায়
স্বপ্নে গড়া ভোর
উষ্ণ যৌবনের কালো রাতে
খন্ড ভারতের বিভৎসতা
মাতৃগর্ভের পূর্ণ লগ্নে
বাড়া ভাতে ছিল ছাই
নষ্ট মেয়ের আহুতি
বিরঙ্গনা বধূর প্রার্থনা
হে ধরণী, তুমি আরো
নষ্ট হও।।

______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

প্রজাপতির কথা  শম্পা দে

একটা প্রজাপতি সতেজ টুকটুকে
একদিন ধরা পড়লো।
তাকে সোনার ঘরে সোনার পালঙ্কে
সোনার শিকল দিয়ে রাখা হল।
সে ভুলে গেল উড়তে।

ফুলের গন্ধ, সবুজ গাছ  আর
স্বাধীন ভাবে নীল আকাশে বিচরণ,
তা ছিল গভীর প্রশ্বাসের মত।
ঠিকমত মুক্ত আকাশে
ওড়ার আগেই ধরা পরে গেল সে,
ডানা কাটা পড়লো না ঠিকই
তবে তা না উড়তে উড়তে
ভারী হয়ে গেল।
পোশাকি গাছ আর ফুল,
তার কাছে হয়ে উঠলো বড়।
সুন্দর আকাশের নীল নীলিমা
হারিয়ে গেল তার সুন্দর
পোশাকি মন থেকে।
আকাশ হয়ে গেল দূর,
আর সোনার শিকল হল আপন।
শিকলে সুখ পেল
শান্তি পেল,
বন্ধুর মত সাথী পেল,
কিন্তু কি যেন একটা পেল না।
যা পাওয়া খুবই আকাঙ্খিত ছিল,
ছিল প্রিয় প্রয়োজন।
হয়তো তা যে কি
তা না জেনেই প্রজাপতিটা
খাঁচার মধ্যে সুখ শান্তি নিয়ে
মরে যাবে।

কিন্তু . . .

______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

প্রার্থনা  মৌসুমী রায়

বিপদে নয়, আপদে রেখো—
এইটুকু যে চাই।
অর্থে নয়, অভাবে তবু—
শান্তিটুকু চাই।
গৃশ ছোট হোক, হৃদয় বড়—
তোমার করুণা চাই।

মাথার ওপর সূর্য থাক্—
হৃদয় মাঝে চাঁদ।
তোমা হৃদে থাকব আমি—
ক’রে তব নাম গান,
এই সাধ-আহ্লাদ।

সংসারেতে রেখো আমায়—
সারা জীবন ধরে।
চিরসুখী করো আমায়—
জন্ম-জন্মান্তরে।।

______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

হঠাৎই সেখানে  অপর্ণা মন্ডল

আবার সেই জায়গা, সেই দীঘি
খেজুর পাতার মর্মর ধ্বনি—
অনেক কচুড়ি ফুল তোমার জন্যে তুলেছিলাম।
এত ফুল যেন সারা আকাশের নীল রং
নেমে এসেছিল তোমার জন্যে।
আর আমি নিজেকে অস্পষ্ট করে তোমার জন্যই
দাঁড়িয়ে ছিলাম।
কচুর পাতাগুলি সেদিন বেশ
হেসেখেলে বেড়াচ্ছিল দীঘির পাড়ে।
সবুজ কার্পেটের উপর অগণিত প্রজাপতি
খেলা করছিল।
ওরা আমায় ডেকেছিল, কিন্তু আমি
আসিনি। কারণ তখনই হয়তো তোমার আসার পালা।
তুমি যখন আসবে—
সমস্ত প্রজাপতিগুলি স্তম্ভিত হয়ে
হয়তো তোমাকেই দেখবে— আর
কচুর পাতাগুলি তখন হয়তো
বৃষ্টির ফোটাও চাইতে পারে।
আমি কিন্তু ওদের হিংসা  করি না।আমার হাতে একরাশ কচুড়িফুল—
সেদিন বাতাসও নীলে নীল হতে চেয়েছিল।
কিন্তু এ ফুল আমি শুধু—
তোমার জন্যই রেখেছিলাম।
তাই আজও নেতিয়ে পড়া কচুড়ি ফুল
আমায় দেখে হাসে
আর প্রজাপতিগুলি সব খেলা শেষ করে
ঘরে ফিরে যায়।
কচুর পাতাগুলি সব ধ্বংসস্তূপ আজ।
তবুও আমি ভীষণ বোকা—
পথ চেয়ে রই তোমার।

_______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

প্রদর্শনী এবং আমি  মনোনীতা চক্রবর্তী

চারিদিকে সাজো সাজো রব— ঢাক বাজবে কিছু পরে
‘মা’— আসছেন ওদের  আঙিনায়— ওদেরই জন্য নৌকোতে।
শিউলি-কাশের ছোঁওয়াছুঁয়ি— মেঘ-মাদলের হাতছানি।
খেয়া ঘাটে আমি। ঠিক তখন!
একটা ছোট নৌকো— একজন মাঝি
সঙ্গে সে। দাঁড় বেয়ে নিয়ে গেল গন্তব্যে।
একটা গুমোট অস্বস্তি, চাপা অদম্য কৌতুহল
প্রদর্শনীর মেলায় আমি সঙ্গে সেই মেয়েটি।
প্রথম কক্ষ — মালা ঝোলানো ফ্রেমে আটা ছবি
একটা আগুন যুবক, একটি মেধাবী মনন
— আজ ইতিহাস!
দ্বিতীয় কক্ষ— পুত্রশোক, পক্ষাঘাতকে আলিঙ্গন করা এক জীর্ণ বৃদ্ধা
তৃতীয় কক্ষ— একমুখ দাড়ি, মাঝবয়সী পলাতক স্ত্রীর সন্তানদের ‘বাবা’
দুটো হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে
— একটা দুর্ঘটনা— কারখানার শ্রমিক
— আজ ইতিহাস!
চতুর্থ কক্ষ—উনিশ বা কুড়ি ভ্রুণহত্যাকারী এক অসহায় মা।
না, তার সীমন্তে কোন রং নেই।

— আজ বর্তমান।
বর্তমান ক্ষিদে— বর্তমান আব্র“—ঘুমন্ত সব ইচ্ছেরা।
রোজগার সেই মেয়েটি।
ক্ষয় সেই মেয়েটি।
রোগ সেই মেয়েটি।
দীর্ঘশ্বাস সেই মেয়েটিই।
দূরে তখন ঢাকের ধ্বনি, আলোর বাঁশিতে ভৈরবের আবাহন
            — মায়ের বোধন !!!

_______________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪


আমি  কৌস্তুভ দে সরকার

নদীও ফুরায়
মোহনায়
বিবাহিতা রমণীর মতো

আমি নদী নারী কিছুই হবো না।

গন্তব্যে ছুটে যায় বাস
বাসে কিছু লেনদেন হয়
সকলেই লেখাপড়া শেখে
একটা কিছু করার আশায়
আমি অহেতুক ছোটাছুটি করবো না

আমি নদী নারী কিছুই হবো না।

আজন্ম ভয় সকলের
আ-মরণ! চাপা আর্তনাদ
শ্মশানে যারা যায় যাক্
আমি এই ভিটে মাটি ছাড়বো না।

আমি নদী নারী কিছুই হবো না।

________________
সেতু, উৎসব সংখ্যা ২০০৪

September 6, 2014

কবিতা / পাগলীনি প্রিয়া / মনজুর আলম

সতের রঙের গোলাপ পরী তুমি
আঠারো রূপ নিয়ে চলো।
ফর্সা মুখে তোমার হরিণ চোখ
তুমি এক অপরা
জোনাকির মতো মিট মিট জ্বলো।

সামনে দুলিয়ে তোমার চুলের বেণী
যখন আমার কাছে আসো
তুমি এক কাঁচা কুমারী
সেদিনের হাসি মেঘলা দিনের
ঝিলিক রোদের মতো।

দুরন্ত চুল বেঁধে ওড়না ঢেকে খোপায়
হাওয়ার সঙ্গে দুলে চলো
তুমি এক বস্তির মেয়ে
বাকপটু হয়ে কাব্য ছড়াও
প্রেমের কিনারে কিনারে।

গোধূলির রোদে মাথা হেঁট করে
যখন নাগরের ধারে বসো
তুমি এক লজ্জাবতী
উদ্ভিদ জগতে লাজুকলতার
আসন তুমি পাতো।

তোমার কালো চুলের নিকষ বেণী
উপুর হয়ে যখন থাকো
তুমি এক শিবঠাকুর
রাঙা মুখে ভাঙ-এর নেশা
যেন এক অদ্ভূত মানান
     রূপোলী এক বনের মতো।

সতের রঙের গোলাপ পরী তুমি
আঠারো রূপ নিয়ে চলো . . .
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / অমৃতা তোমাকে / রত্না কুন্ডু

অজান্তে কখন যেন শতপদ্ম
বিকশিত হয়েছিল একসাথে।
তখনো হয়তো শরৎ আসেনি,
তবুও
চাঁদ, চকরো তখনো আলাপন হয়নি
তবুও
জানো, সযতনে সাজানো ছিল যে যুক্তি
কখন যেন তারা পেয় গেল মুক্তি।
আর তারাগুলোযেন হঠাৎ একসঙ্গে
হেসে উঠল, বলল, ‘এমনি হয়
আর তারা ভরা আকাশের সাতে তাদের
আলোয় তুমি শুকতারাহলে।
জানো, আর মুক্তি, তার সুক্তিহয়ে
কোন অজানা সাগর তলে ঝিনুকের সাথে
রয়ে গেল।
আর বলে গেল, খোঁজ করো
সপ্ত সাগর উথাল পাথাল করে।
সেই যে চোখ রেখে খুঁজতে গেলাম
তখন দেখি তোমার চোখ থেকে
মুক্তো বিন্দুগুলো ঝরে গেল।
তখনি শত বেণু যেন বেজে উঠলো
যমুনার পাড়ে, বৃন্দাবনে, মন পবনে
ছড়িয়ে গেল সে ধ্বনি, কোথা হতে শুনি
কি করি, কি না করি,
সবছেড়ে যাই
পূর্বাপর।
হীনতা, দীনতা, দুর্বলতা, আশা উচ্চাশার
সব চে,কাঠ ছাড়িয়ে পা রাখি
সবুজ মখমলে, অবুঝ হয়ে অমৃতের খোঁজে।
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / সুনামি ঢেউ / কৌন্তেয় নাগ

সুনামি ঢেউ আছড়ে পরার
অনেক আগে
ইচ্ছা ছিল তোমার সঙ্গে
সমুদ্র ঢেউ লুটোপুটি
একটি সকাল।

এক্কা-দোক্কা খেলতে খেলতে
হারিয়ে যেত মাছ-বালিকা
ঝাউবন ওই বালুর চরে,

সুনামি ঢেউ আছড়ে পরার
অনেক আগে
স্বপ্নদেখা  সমুদ্রটা
ফুলে ফেঁপে আসছে ফিরে
তীরের কাছে।

সুনামি ঢেউ আছড়ে পরে
হারিয়ে যায় অনেক মানুষ
সোনালী স্বপ্ন
বিকাল বেলা।

একটি সকাল

ঝাউবন আর বালুর চর
খুঁজে ফিরি
মাছ-বালিকা।
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / প্রেম / প্রণব কুমার দেবনাথ


হঠাৎ করে দিলি দেখা
আমার প্রথম যৌবনে,
রঙ-মহলী মন্টারে তোর
দোল-ফাগুয়ার ফুল-বনে।
সত্যি-রে তোর আকুলতায়
ব্যাকুল প্রেমের পাখি,
ঠাঁই পেলি না মনের মাঝে
রলো জলে আঁখি।
কেনরে তুই কইলি কথা ?
সত্য পরিচয়,
আসল-নকল প্রেমানলে
লাগছে কেন ভয় !
দাম্পত্যটা সম্পত্তি নয়
শুভেচ্ছাটাই বড়,
ফিরে আসুক তোর জীবনে
ভালোবাসা আরো।
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / কাঁটা / জয়িতা রায়


আমার পরিবর্তিত ঠিকানা মরুভূমি
আমার পরিবর্তিত নাম ক্যাক্টাস্।
পরিবর্তিত পদবী কাঁটা।
আমার চাকরি মরুদ্যানে।
কাজ মরিচীকার পেছনে ছোটা।
আর অলীক কিছু স্বপ্ন ফেরি করা।
ক্রেতার বড়ই অভাব এখানে।

সেদিন তোমায় দেব বলে মরুদ্যানে গোলাপ খুঁজতে গিয়ে
জ্ঞান  হারিয়ে লুটিয়ে পড়ি তপ্ত বালির বুকে
ভাগ্যিস তুমি আমার হাত ধরে তুলেছিলে।
স্মৃতি  ফিরে পেয়ে দেখি
খালি ঝুলি হাতে আমি একা, বিষণœ মরুভূমি।
তুমি জল দিয়ে যাও নি।
তুমি জানতে ক্যাকটাস জল ছাড়াই বাঁচে
              দীর্ঘ আয়ু।
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / সেদিন বৃষ্টিতে ওরা ভিজেছিল / স্বপন মজুমদার


শব্দের উঠোনে দাঁড়িয়ে তিনি পুড়ে যাচ্ছিলেন
অস্থিরতার গনগনে আগুনে
নিঃশেষ হবার আগে বিকেলের নরম রোদ
ঝুরঝুরে বালির মতো ভেঙে পড়লো হাওয়ায়,
মিউজিয়ামের সিঁড়ি দিয়ে বৃষ্টি গড়িয়ে গড়িয়ে মুক্তো
পাখির পালকের মতো হাল্কা ভাসমান
মেঘের শরীর ছুঁয়ে ছুঁয়ে ভোরের আকাশ
উত্তরসূরীদের জন্য সিন্দুকে ভরে রাখলেন তিনি
সহজাত স্নেহ-ভালোবাসা, কিছু সম্ভাষণ,
আমন্ত্রণ জানিয়ে বুকের কাছে টেনে আনলেন সকালের রোদ;
দরজা খোলা রেখে বিক্ষিপ্ত মেঘ আকাশের দিকে
ছড়িয়ে দিলেন মুঠো মুঠো সুখ বর্দ্ধিত উচ্ছ্বাসে
তখুনি সমুদ্রের মতো অতলান্ত তার শঙ্খ চোখ
বিদ্যুৎ চমকে আলোকিত করেছিল পৃথিবী;
ভালো থাকার এমন মহার্ঘ মুহূর্ত্তে
লাজুক সেই মেয়ের দুচোখ বন্দী হল হাতের তালুতে

সেদিন সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত, বৃষ্টিতে ওরা ভিজেছিল
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / মধ্যরাতের কবিতা / সুশান্ত নন্দী


তুমি আমার মধ্যরাতের কবিতা
যখন সবাই ঘুমের মধ্যে কাদা
আমি তখন উঠছি জেগে
তোমাকে শেখার জন্য।

তুমি আমার মধ্যরাতের কবিতা
ইচ্ছে আর চাহিদা মতো
মুহূর্তেই বদলে ফেলি তুমি ও তোমাকে
শুধু নিজের জন্য।

তুমি আমার মধ্যরাতের কবিতা
তোমাকে শুধু  হাজার বার
          হারাতে শিখি
হন্যে হয়ে খুঁজে পাবার জন্য।

––––––––––––––––––––––
বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / চৈত্রের বিকেলে একদিন / নিশিকান্ত সিন্হা


সব দায়ভার ছুঁড়ে ফেলে
আত্মানুসন্ধানে থাকবে আর কতদিন ?
চৈত্র মাসের শুকনো বাতাসে শুধুই ঝরে আমের মুকুল
সেই কবে শুকিয়ে গেছে হাতে গোনা টবের কয়েকটি ফুল।

আকাশের মেঘ ঘুরে ফিরে উড়ে যায়
দিশাহীন অস্পষ্ট নিরুদ্দেশে
দোলের রং এখন ভীষণ ফ্যাকাশে বর্ণহীন
তোমার নিরাসক্ত জিজ্ঞাসাবিহীন চোখ
আমাকে হারিয়ে ফেলে স্মৃতির বিস্তৃত জঞ্জালে।

চারপাশের ধুলোভর্তি বৃত্ত আর চৈত্রের বাতাস
দুপুরের øিগ্ধ আবির্ভাবে আমি উঁকি দিই সন্তপর্ণে
তুমি রয়েছো বিভোর সব দায়ভার ছুঁড়ে
নিরাসক্ত জিজ্ঞাসাবিহীন তোমার চোখেরই মত।
––––––––––––––––––––––

বিবর, এপ্রিল ২০০৫

কবিতা / চৈতি নামের সেই মেয়েটি / নীতীশ বসু


আংরাভাসা নদীর পাড়ে সেই কাঠের বাড়ি আর
উঠোনের সেই আঁশবটি
যেখানে ছিল চৈতি নামের সেই মেয়েটি, যার কাছে
প্রতিদিন বিকেল হলেই ছুটে যেতাম বুক পকেটে চিঠি।

ইস্কুলে ছিল দুক্লাস নিচে
দেখা হত বারান্দায় কিংবা ছুটির পর
লজ্জায় লালমুখ   বেণী দুলিয়ে ছুটে যেত ঘরের ভিতর
ওকে নিয়ে অহংকার, ফ্রক ছেড়ে ধরেছিল সবে শাড়ি।

আংরাভাসা নদীটি আছে, বন্ধু তপনও
নেই চৈতি নামের সেই মেয়েটি আর আঁশবটি, কাঠের বাড়ি
চৈতি ছিল পতিত মাঠে আমার স্বপ্ন, তাকে আমি
আজও খুঁজি হোক-না সে অচেনা এক নারী।

––––––––––––––––––––––
বিবর, এপ্রিল ২০০৫